১৯৬১ সালে বিএমডব্লিউ ১৫০০ উন্মোচনের সময় নোয়ে ক্লাসে বা নিউ ক্লাস শব্দটি ব্যবহার হয় প্রথমবার। এর মাধ্যমে আধুনিক চার দরজার সেডানের সূচনা করে কোম্পানিটি। এখন নতুন বিদ্যুচ্চালিত মডেলে নোয়ে ক্লাসে আবার ফিরিয়ে আনল বিএমডব্লিউ। এর আওতায় প্রথম মডেল হিসেবে সপ্তাহখানেক আগে উন্মোচন হয়েছে আইএক্সথ্রি। নতুন সিরিজটি বিদ্যুচ্চালিত প্রযুক্তি, ডিজিটালাইজেশন ও টেকসই রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আই৭, আইএক্স ও এক্সএমের মতো অদ্ভুত মডেলের মাধ্যমে নান্দনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যস্ত ছিল বিএমডব্লিউ। তাতে মাঝে মাঝে বিতর্কেরও শিকার হয়েছিল। এখন জার্মান ব্র্যান্ডটি আইএক্সথ্রি মডেলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইন গ্রহণ করেছে। নোয়ে ক্লাসে সিরিজের প্রথম গাড়িটি বিএমডব্লিউর ভবিষ্যৎ নকশার দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। মিউনিখের উন্মোচন অনুষ্ঠানে পুরোপুরি বিদ্যুচ্চালিত এ এসইউভি মডেলকে এসএভি বা স্পোর্টস অ্যাক্টিভিটি ভেহিকল হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় বিএমডব্লিউ। এর গড়নে আই৭ ও এক্সএম মডেলের চ্যালেঞ্জিং ও অনন্যতা বজায় থাকলেও পৃষ্ঠতল ও অনুপাত অনেক বেশি সুসমন্বিত। এর বাঁক, ফোলানো অংশ ও ধারালো প্রান্ত পুরনো নোয়ে ক্লাসে থেকে অনুপ্রাণিত। ফিউচারিস্টিক ধাঁচের কাঠামোর ভেতর রয়েছে একটি আধুনিক প্লাটফর্ম এবং বিদ্যুচ্চালিত ড্রাইভট্রেন ই-ড্রাইভ; যা এক চার্জে ৮০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পাড়ি দিতে সক্ষম। ৮০০ ভোল্ট বিদ্যুচ্চালিত আর্কিটেকচারের কারণে গাড়িটির চার্জ হবে দ্রুত। নোয়ে ক্লাসের উন্নত ড্রাইভ প্রযুক্তি শক্তি ক্ষয় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমাবে। ডিজাইনের পরিবর্তনে ওজন কমছে ১০ শতাংশ। এছাড়া উৎপাদন খরচ ২০ শতাংশ কমেছে। ভেতরে স্থান সংকুলানও বাড়ছে। লাগেজ কম্পার্টমেন্টে ৫২০ লিটার পর্যন্ত মালপত্র ধারণ করা যাবে, কিন্তু রিয়ার সিটের ব্যাকরেস্ট ফোল্ড করলে তা ১ হাজার ৭৫০ লিটার পর্যন্ত বেড়ে যাবে। বনেটের নিচের স্টোরেজ কম্পার্টমেন্টে আরো ৫৮ লিটার ধারণক্ষমতার জিনিসপত্র রাখা যায়। শিগগিরই হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনের নতুন প্লান্টে গাড়িটির উৎপাদন শুরু হবে। তবে এখনো গাড়িটির মূল্য প্রকাশ করেনি বিএমডব্লিউ। খবর দ্য ন্যাশনাল